হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ টোল আরোপের ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উপসাগরীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের প্রতিশ্রুতির পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ না করলে ভবিষ্যতে দেশটিতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ ও বাণিজ্য নিয়ে আসবে।
ট্রাম্প লেখেন, “মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাদের প্রতিশ্রুতির পর আমি হরমুজে টোল আদায়ের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছি। এর পরিবর্তে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল বিনিয়োগ ও বাণিজ্য আসবে।”
এর আগে ১৩ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে এবং সেই ব্যয় মেটাতে জাহাজগুলোর কাছ থেকে ২০ শতাংশ হারে টোল আদায় করা হবে।
তবে নতুন ঘোষণায় তিনি টোল আরোপের পরিকল্পনা বাতিল করলেও হরমুজ ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বহাল রাখার কথা জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না এবং দেশটির বন্দরগুলোতে অবরোধ পুনর্বহাল করা হয়েছে।
যদিও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে কী পরিমাণ বিনিয়োগ আসতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প। তবে তার দাবি, এই বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প উৎপাদন, উৎপাদনশীল খাত এবং কর্মসংস্থানে ‘ঐতিহাসিক উল্লম্ফন’ ঘটাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এ প্রণালি ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
আরো পড়ুন: