‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বলেই নতুন অধ্যায় শুরু করলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বলেই নতুন অধ্যায় শুরু করলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪১

‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’- এই চার শব্দ দিয়েই যুক্তরাজ্যের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি বলেছেন, শুধু নেতৃত্বের দায়িত্ব নয়, যুক্তরাজ্যকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জুলাই) বিশেষ দলীয় সম্মেলনে লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে তার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সোমবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজা বার্নহ্যামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। আমন্ত্রণ গ্রহণের পর তিনি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে সাধারণ মানুষের চাহিদা ও দেশের ভবিষ্যৎ পথ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে।

তিনি বলেন, তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য হবে রাজনীতির ওপর মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং এমন একটি সরকার গঠন করা, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

বার্নহ্যাম জানান, লেবার পার্টিকে আবারও শ্রমজীবী মানুষের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। জনসেবা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো হবে তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে কথা বলে আসছেন। নতুন নেতৃত্বেও তিনি স্থানীয় সরকারগুলোর হাতে আরও ক্ষমতা ও অর্থ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত লন্ডনকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে।

ভাষণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) শক্তিশালী করা, সামাজিক সেবা সংস্কার এবং অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

তিনি বলেন, অতীতের কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে অনেক মানুষ নিজেদের পিছিয়ে পড়া মনে করছেন। তার নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে।