সামরিক সংকটের মাঝে কাঁপছে ইরান, ৭ দিনে ৮৩ ভূকম্পন

সামরিক সংকটের মাঝে কাঁপছে ইরান, ৭ দিনে ৮৩ ভূকম্পন
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫১

চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই গত এক সপ্তাহে অন্তত ৮৩টি ছোট-বড় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইরান। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এসব ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ কম্পনের মাত্রা কম হলেও এ সময়ে ৪ থেকে ৫ মাত্রার দুটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

রোববার (১৯ জুলাই) ইরানের সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (আইআরএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ৩ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব ভূমিকম্প হয়েছে।

এর মধ্যে ৭১টির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩-এর নিচে, ১০টির মাত্রা ছিল ৩ থেকে ৪-এর মধ্যে এবং দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ থেকে ৫-এর মধ্যে।

এই সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি ছিল ৪ দশমিক ১ মাত্রার। গত ১০ জুলাই কেরমান প্রদেশে এটি আঘাত হানে।

প্রাদেশিক হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ১০টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে খোরাসান রাযাভি প্রদেশে। এছাড়া সেমনান, কেরমান ও ফার্স প্রদেশে আটটি করে এবং মাজানদারান প্রদেশে সাতটি কম্পন অনুভূত হয়েছে।

রাজধানী তেহরানে একই সময়ে তিনটি মৃদু ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আলবোরজ, খুজেস্তান ও জানজানসহ কয়েকটি প্রদেশে কোনো ভূকম্পনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইরানি বর্ষপঞ্জির গত বছরে (মার্চ ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) দেশজুড়ে রিখটার স্কেলে ২ দশমিক ৫ বা তার বেশি মাত্রার মোট ২ হাজার ৩৮০টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।

এর মধ্যে ৯১০টির মাত্রা ছিল ৩-এর বেশি, ১৩০টির মাত্রা ৪-এর বেশি এবং ১৫টি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫-এর বেশি।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। আরবীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে দেশটিতে নিয়মিত ভূত্বকের নড়াচড়া ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কম মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত বড় ক্ষতি না করলেও অগভীর উৎপত্তিস্থলে হওয়া কম্পন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ঐতিহাসিকভাবে ইরানে ঘন ঘন ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটিকে বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।