মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নতুন হামলার মধ্যে উত্তর ইরাকে একটি অবিস্ফোরিত ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক সেনা নিহত হন এবং আরেকজন আহত হন। নিহত সেনার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে এ নিয়ে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। এর আগে শুক্রবার জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। রোববার সেন্টকম জানায়, ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, যা শনাক্তের জন্য পরীক্ষা চলছে।
গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি কার্যকর না থাকায় এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিপুলসংখ্যক ‘শাহেদ’ একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহার করেছে। তুলনামূলক কম খরচে তৈরি এসব ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের সিরিক ও ইরাক সীমান্তসংলগ্ন শাদেগান এলাকায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবাদান শহরে বিস্ফোরণের খবরও প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দারখোভিনে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়েছে দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, তারা হামলার ঘটনাটি পর্যালোচনা করছে।
এর জবাবে ইরান কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একটি পানি পরিশোধন কেন্দ্রে হামলা হয়েছে, যাতে আগুন লেগেছে। বাহরাইনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীও একটি ইরানি হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। একই সময়ে জর্ডানের সামরিক বাহিনী তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে। হামলার প্রতিবাদে দেশটি ইরানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে।
আরো পড়ুন: