যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা হবে নাকি আবারও যুদ্ধবিরতির পথে যাবে ইরান—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
রোববার (১৯ জুলাই) ইরানি সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে যেসব হামলা চালাচ্ছে, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের জবাব হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে যাওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আরাগচি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। আমাদের সামরিক অভিযানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়া। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।”
এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘ সময়ের উত্তেজনার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল, ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বন্দর অবরোধ তুলে নেবে।
তবে পরবর্তী সময়ে চুক্তি নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়। হরমুজ প্রণালিতে হামলার অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেওয়ার পর তেহরানের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদ সমঝোতা থেকে সরে আসার বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়।
সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আরাগচি বলেন, তার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ সীমিত এবং তিনি নিজেও এখনো তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।
আরো পড়ুন: