ইউরোপে যাওয়ার পথে নৌকাডুবি, মৌরিতানিয়ায় ১৪০ শরণার্থী নিখোঁজ

ইউরোপে যাওয়ার পথে নৌকাডুবি, মৌরিতানিয়ায় ১৪০ শরণার্থী নিখোঁজ
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৪৫

বিপজ্জনক সমুদ্রপথে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন একদল শরণার্থী। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়ার উপকূলে নৌ দুর্ঘটনায় ১৪৩ জনের বেশি অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের অধিকাংশেরই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি নৌকা মৌরিতানিয়ার উপকূলে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ওই নৌকায় থাকা ১৪৩ জন অভিবাসীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সংস্থাটি জানায়, গত ১৪ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে মৌরিতানিয়ার উপকূলে তিনটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন নৌযান থেকে ৩৮৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত নৌকাটি গাম্বিয়ার বাফুলোতো এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রায় ২৫ দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর ১৮ জুলাই নুয়াদিবু বন্দরে পৌঁছায় নৌকাটি। সেখানে নৌকা থেকে মৃতদেহ এবং ৩৮ জন জীবিত যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ম্যাট সল্টমার্শ জানান, উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। যাত্রাপথে তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছে। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তিরা সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক ছিলেন। তবে তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।

অন্যদিকে, মৌরিতানিয়ার কোস্টগার্ড জানিয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা ১২২ জন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাম্বিয়া থেকে ১৬০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করা নৌকাটির একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে যায়।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, মৌরিতানিয়া থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার আটলান্টিক রুট বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন পথ।

দীর্ঘ সমুদ্রপথ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং অনুপযোগী নৌযানের কারণে এ পথে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মৌরিতানিয়া এই অভিবাসন পথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ উন্নত জীবনের আশায় এই পথ দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত কঠোর নজরদারি ও অভিযানের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এই পথে যাত্রার সংখ্যা কমেছে। একই সঙ্গে মৌরিতানিয়া কর্তৃপক্ষ অনেক অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠিয়েছে।