ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ও ইমামদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ও সামরিক শাসক ইব্রাহিম তাওরে। তিনি বলেছেন, ‘উগ্রবাদী ইসলামের’ বিরুদ্ধে তাদের লড়াই শুরু হয়েছে এবং যারা উগ্রবাদ প্রচার করবেন তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে তাওরে বলেন, “যদি এটি আপনাদের ইসলাম হয়ে থাকে, আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। উগ্রবাদীদের অবশ্যই পরিবর্তন হতে হবে। যদি তারা পরিবর্তন না হয়, তাহলে যুদ্ধ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।”
তাওরে নতুন একটি ধর্মীয় আইনের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই আইনের মাধ্যমে দেশটির ধর্মনিরপেক্ষতার চরিত্র পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, খুতবার মাধ্যমে যারা উগ্রবাদ ছড়াবেন তাদের বহিষ্কার করা হবে। তবে শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা দেওয়া ইমামদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, বিদেশি শক্তিগুলো ধর্মকে ব্যবহার করে দেশটিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
গত ২০ জুন বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন পার্লামেন্টে নতুন ধর্মীয় আইন সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। আইনটিতে শিশুদের দিয়ে ভিক্ষা করানোসহ ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নিয়ম আরোপ করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, দেশটির ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা ও ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ করতেই এই আইন করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ধর্মীয় আইন নিয়ে সমালোচনার পর কয়েকজন প্রভাবশালী ইমামকে আটকের ঘটনায় দেশটিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
গত মে মাসে সুন্নি ইমাম মোহাম্মদ ইশহাক কিন্দোকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। তিনি নতুন ধর্মীয় আইনের খসড়ার সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর আটকের পর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে রাজধানী ওগাদোগুর একটি বড় সুন্নি মসজিদ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেয় সরকার।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইশহাক কিন্দোর প্রায় ১০০ সমর্থককেও আটক করা হয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসে মাহমুদ বারো নামের আরেক ইমামকে আটক করা হয়েছিল।
বুরকিনা ফাসো দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার মুখোমুখি। দেশটির সামরিক সরকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব জোরদারের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে।
গত ২০ জুন বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে ধর্মীয় আইন পাস করা হয়। এতে শিশুদের দিয়ে ভিক্ষা করানোসহ ধর্মের অপব্যবহারের জন্য অর্থ ও কারাদণ্ডের বিধান করা হয়। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আর্থিক স্বচ্ছতা না দেখাতে পারে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে এতে।
দেশটির বর্তমান সরকারের দাবি ধর্মনিরপেক্ষতা অক্ষুন্ন রাখতে এ আইন করা হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে আইনটি বানানো হয়েছে।
আরো পড়ুন: