যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি সংলাপে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ কারণেই ইরানে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, "তারা খুব ভদ্রভাবে আমাদের বলেছে, 'দয়া করে অভিযান থামান, আসুন সাক্ষাৎ করি।' আমরা এখন সেই অবস্থায় আছি। দেখা যাক কী হয়। যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারি, তাহলে আবার আগের পথেই ফিরতে হবে।"
এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে দুটি আমিরাতি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান অভিযান শুরু করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, হামলাটি চালিয়েছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় আইআরজিসি।
টানা ১৩ দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর ২৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) অভিযান স্থগিত করে। এরপর থেকে ইরানও পাল্টা হামলা বন্ধ রেখেছে।
এদিকে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ইরানের একজন কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেহরান "হামলার বদলে হামলা" নীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও সামরিক প্রতিক্রিয়া স্থগিত রাখবে বলে ওয়াশিংটনকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে ইরানের আগের অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। কয়েক দিন আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শান্তি সংলাপ শুরু করার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই।
আরো পড়ুন: