খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন নাগরিক শক্তির বিভাগীয় নেতা মোতালেব শিকদারকে গুলি করা হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার আল আকসা মসজিদ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাড়িতে তাকে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। গুলিটি কানের একটু উপরে মাথার চামড়া ছিঁড়ে বেরিয়ে গেছে।
স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে খুমেক হাসপাতালের আরএমও ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, গুলিটি ভিকটিমের কানের ওপরের চামড়া ভেদ করে চলে গেছে। সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। ইন্টারনাল ড্যামেজ হয়নি। তিনি আশঙ্কামুক্ত।
এদিকে, গুলিবিদ্ধ মোতালেবের বক্তব্য ও ঘটনার সঙ্গে মিল খুঁজে পায়নি পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং পেছনের কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এক নারীর কক্ষে গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব। ওই কক্ষ থেকে মাদকের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তাকে গুলি করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মোতালেব শিকদার এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক ও খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক। তিনি গত বছরের ০৫ অগাস্টের আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, রাতে মোতালেব শিকদারের সহযোগীরা ইয়াবা সেবন, মদ্যপান এবং নারী সঙ্গ নিয়ে ছিলেন। নিজেদের মধ্যে মতবিরোধের জেরে সহযোগীদের কেউ একজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি রিকশাযোগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। ঘটনার পর থেকে ওই ফ্ল্যাট নেওয়া তরুণীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
ঘটনাস্থল মসজিদ সরণির মুক্তা হাউজের মালিকের স্ত্রী আশরাফুন্নাহার বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই তরুণী নভেম্বর মাসে বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। তিনি নিজেকে এনজিওকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন। তার কক্ষে একাধিক পুরুষের আসা-যাওয়া ছিল। পরে অন্যদের মাধ্যমে তার অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়টি জানতে পেরে এ মাসে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়। তবে ছাড়ার আগেই এ ঘটনা ঘটে।’
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, 'খুলনা এনসিপির এক নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে আমরা খবর পাই। এর পর পরই আমাদের টিম ঘটনাস্থল অর্থাৎ গাজী মেডিকেল কলেজের পাশে আল আকসা মসজিদ রোড এলাকায় আসে। এখানে এসে জানতে পারি মুক্তা হাউজ নামের ভবনটিতে এ ঘটনা ঘটেছে।'
তিনি বলেন, 'গাজী মেডিকেল কলেজের পাশের একটি ফার্মেসি থেকে আমরা ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ফুটেজে দেখা যায় রোববার রাতে ভুক্তভোগী মোতালেব এবং তার সঙ্গে আরও দু'জন পুরুষ একটি গাড়িতে করে এসে প্রধান সড়কে নামে। সেখান থেকে তারা সংশ্লিষ্ট বাড়ির দিকে যাচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'মুক্তা হাইজের কক্ষ থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা এখানে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন এবং নিজেদের মধ্যে কোন্দলের কারণেই গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত। মোতালেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাকিদের নাম জানা যাবে।'
সোনাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডল বলেন, 'প্রথমে ভুক্তভোগী আমাদের জানিয়েছিলেন- রাস্তায় মোটরসাইকেলে এসে হাদির মতো স্টাইলে তাকে গুলি করে চলে যায়। পরে দেখলাম যে ঘটনা ঘরের ভেতরের। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে দু'জন তাকে ধরে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। তাকে কারা হাসপাতালে নিয়ে যান সেটাও আমরা খুঁজে দেখছি।'
আরও পড়ুন…
এবার খুলনায় এনসিপির নেতার মাথায় গুলি
আরো পড়ুন: